ইমামের কিরাআত শোনার সময় মুকতাদির কিরাআত পড়া

প্রশ্ন

নামাযে ইমামের পেছনে দাঁড়িয়ে মুকতাদিকে কি সূরা ফাতিহা পড়তে হবে? না কি কেবল চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকতে হবে?

শরয়ী সমাধান
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيم

হানাফি মাজহাব অনুযায়ী, জামাতে ইমামের পেছনে নামায পড়ার সময় মুকতাদি সূরা ফাতিহা বা অন্য কোনো কিরাআত পড়বে না। তার জন্য ইমামের কিরাআতই যথেষ্ট।

হানাফি ফিকহে এই আমলকে সমর্থন করার পেছনে দুটি মূল ভিত্তি আছে:

  1. কুরআনের স্পষ্ট নির্দেশ: “وَإِذَا قُرِئَ الْقُرْآنُ فَاسْتَمِعُوا لَهُ وَأَنصِتُوا” (আল-আ’রাফ ৭:২০৪)
    অর্থ: “যখন কুরআন তিলাওয়াত করা হয়, তখন মনোযোগ দিয়ে শুনো ও নীরব থাকো।”

  2. হাদীস শরীফে এসেছে:

    «من كان له إمام فقراءة الإمام له قراءة»
    (সুনান ইবনে মাজাহ, হাদীস: ৮৫০)
    অর্থ: “যার ইমাম আছে, তার কিরাআতের দায়িত্ব ইমামের কিরাআতেই সম্পন্ন হয়ে যায়।”

✅ অতএব, ফরয নামাযে ইমামের পেছনে দাঁড়ানো অবস্থায় মুকতাদির জন্য চুপ থাকা ওয়াজিব।
❌ ফাতিহা বা অন্য সূরা পড়লে তা مكروه (অপছন্দনীয়) হবে।

তবে,
🔹 যদি ইমাম নামাযে চুপ থাকেন (যেমন ইকামতের পর সামান্য সময়), তখন ফাতিহা পড়া মাকরূহ হবে না।
🔹 নফল ও নিজে একা পড়লে অবশ্যই সূরা ফাতিহা পড়া ফরজ।

শরয়ী প্রমাণাদি

আল-কুরআন:

﴿وَإِذَا قُرِئَ الْقُرْآنُ فَاسْتَمِعُوا لَهُ وَأَنصِتُوا لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ﴾
(সুরা আল-আ‘রাফ, ৭:২০৪)

🔹 হাদীস:

«إنما جعل الإمام ليؤتم به، فإذا كبر فكبروا، وإذا قرأ فأنصتوا…»
(সহীহ মুসলিম, হাদীস: ৪০৪)
অর্থ: “ইমামকে অনুসরণের জন্যই করা হয়েছে। সে যখন তাকবীর বলবে, তোমরাও বলো; সে যখন কিরাআত করবে, তোমরা নীরব থাকো।”

🔹 ফিকহি ব্যাখ্যা (হানাফি মাজহাব):

“والمأموم لا يقرأ خلف الإمام في الجهرية ولا في السرية عند أبي حنيفة”
(الدر المختار مع رد المحتار, ১/৫৫৮)
অর্থ: “ইমামের পেছনে মুকতাদী জাহরি (উচ্চ আওয়াজের) এবং সিরি (নিচু আওয়াজের) উভয় নামাযেই কিরাআত করবে না – ইমাম আবু হানিফা (রহ.) এর মত।”

فقط واللہ اعلم
সংকলক

52

সত্যায়ন

নতুন ফতোয়া

প্রশ্ন করুন

যদি আপনার প্রশ্ন তালিকাভুক্ত না থাকে, তাহলে আপনার প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করতে নিচে ক্লিক করুন। আপনার প্রশ্ন জমা দেওয়ার পরে, উত্তরের জন্য অপেক্ষা করুন। প্রশ্নের সংখ্যা বেশি হওয়ার কারণে, কখনও কখনও উত্তর দিতে ১৫ থেকে ২০ দিন পর্যন্ত সময় লাগে।

Scroll to Top