ব্যাংক থেকে সুদের টাকা নেওয়া ও তার ব্যবস্থাপনা
ব্যাংক একাউন্টে সুদের মাধ্যমে প্রাপ্ত অর্থের শরয়ী হুকুম কী? তা কি নিজের জন্য ব্যবহার করা যাবে? না কি কোনো বিশেষ ব্যবস্থায় তা খরচ করতে হবে?
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيم
ইসলামে সুদ (রিবা) সম্পূর্ণ হারাম। কুরআন ও সহীহ হাদীসের দ্বারা সুদের কঠিন নিষেধাজ্ঞা প্রমাণিত।
সুতরাং, ব্যাংক থেকে যে সুদের টাকা আসে, তা নিজের জন্য খরচ করা হারাম। তবে একে সম্পূর্ণ ফেলে না দিয়ে, কোনো ব্যক্তিগত লাভের উদ্দেশ্য ছাড়াই মিসকিন বা গরিবদেরকে দান করে দেওয়া যেতে পারে।
মনে রাখতে হবে:
-
এটি দান করলে এর দ্বারা কোনো নেকি বা সওয়াবের আশা করা যাবে না।
-
বরং এটা গুনাহ থেকে বাঁচার একটি উপায়মাত্র।
✅ সুদের টাকা দিয়ে:
-
মসজিদ নির্মাণ, কুরআন মাদরাসা ইত্যাদির মূল কাঠামো নির্মাণ বা ধর্মীয় কাজ করা যাবে না।
-
তবে টয়লেট, রাস্তাঘাট, ড্রেন নির্মাণের মতো পাবলিক উপকারের জায়গায় খরচ করা জায়েজ আছে।
আল-কুরআন:
﴿يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَذَرُوا مَا بَقِيَ مِنَ الرِّبَا إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ﴾
(সূরা আল-বাকারা, ২:২৭৮)
অর্থ: “হে ঈমানদারগণ! আল্লাহকে ভয় কর এবং যা কিছু সুদ অবশিষ্ট আছে তা পরিত্যাগ কর, যদি তোমরা সত্যিকার মুমিন হও।”
🔹 হাদীস:
«لعن رسول الله آكل الربا وموكله وكاتبه وشاهديه، وقال: هم سواء»
(সহীহ মুসলিম, হাদীস: ১৫৯৮)
অর্থ: “রসূল (সা.) সুদখোর, সুদদাতা, সুদ লেখক ও সুদের সাক্ষীদের অভিশাপ দিয়েছেন এবং বলেছেন: এরা সবাই সমান অপরাধী।”
🔹 ফিকহি ব্যাখ্যা (হানাফি মাজহাব):
“مال الربا لا يملك بالقبض، بل يجب التخلص منه بصرفه في وجوه البر، بلا نية القربة.”
(رد المحتار, ٦/٣٨٥)
অর্থ: “সুদী অর্থ কেবল হাতে আসার দ্বারা মালিকানা অর্জিত হয় না। বরং তা পুণ্যর আশা না করে সৎকার্যে খরচ করে মুক্তি পাওয়া আবশ্যক।”
فقط واللہ اعلم
52
নতুন ফতোয়া
প্রশ্ন করুন
যদি আপনার প্রশ্ন তালিকাভুক্ত না থাকে, তাহলে আপনার প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করতে নিচে ক্লিক করুন। আপনার প্রশ্ন জমা দেওয়ার পরে, উত্তরের জন্য অপেক্ষা করুন। প্রশ্নের সংখ্যা বেশি হওয়ার কারণে, কখনও কখনও উত্তর দিতে ১৫ থেকে ২০ দিন পর্যন্ত সময় লাগে।